মেহেদী হাসান লিটন, উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক বগুড়ার উত্তর চেলোপাড়ার কলেজছাত্র জুনায়েদ হোসেন (২০) এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। জটিল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি শহরের টিএমএসএস হেমোটলজি বন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টারে
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ্ ’র তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জুনায়েদ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও মিছিলে সামনে থাকায় আন্দোলনকর্মীদের কাছে তিনি একজন সাহসী যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত।
তার বাবা মো. জাকির হোসেন চেলোপাড়ায় ছোট একটি ব্যবসা করে কোনোমতে সংসার চালান। সন্তানের চিকিৎসার বিপুল অর্থ খরচ বহন করতে গিয়ে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
জুনায়েদের মা রঞ্জনা বেগম জানান, ‘২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষার সময় জুনায়েদের কণ্ঠনালিতে লিম্ফোমা ক্যান্সার ধরা পড়ে। এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করে কলেজে ভর্তি হয়। কিন্তু চিকিৎসা গ্রহনে হাসপাতালে বিছানায় থাকায় কারণে ১ম বর্ষের পরীক্ষায় বসতে পারেনি । তবে ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলন শুরু হলে অসুস্থ শরীর নিয়েই রাজপথে নেমে পড়ে। এতদিন ধরে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী এবং সমাজসেবা কার্যালয় থেকে পাওয়া সামান্য অনুদান দিয়ে ২৪টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। জমি বিক্রি করে এযাবত প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ডাক্তাররা বলেছেন, আরও ৮-১০টি কেমো দিতে হবে, যাতে খরচ হবে আরও ১০ লাখ টাকা।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এখন নিঃস্ব প্রায়। সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের একটু সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে ছেলেটা নতুন জীবন ফিরে পেত ।’
জুনায়েদের মামা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মনারুল ইসলাম জানান, 'জুনায়েদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে পুরো ৩৬ জুলাই রাজপথে মিছিলের অগ্রভাগে ছিল। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও সে পেছনে সরে যায়নি। এনসিপি ও জাতীয় নাগরিক কমিটির অনেক শীর্ষ নেতার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত পরিচয় থাকলেও নিজের অসুস্থতার কথা জানালেও কারো সহায়তা পায়নি।’
এ বিষয়ে জুনায়েদের বাবা জাকির হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও এনসিপির বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে শান্তনা দেয়া আর আশ্বাস ছাড়া বাস্তবে কোন অর্থ সহায়তা পাওয়া যায়নি। এখন শুধু শান্তনা দিয়ে লাভ নেই। সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। জুনায়েদকে বাঁচাতে এখনই সহায়তা প্রয়োজন।’
ছেলের জীবন রক্ষায় তিনি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেছেন- আপনাদের সামান্য সহায়তাই আমাদের পরিবারকে নতুন আলো দিতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : এম, এইচ মোতালেব খান, নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ মনির হোসেন কাজী
ঠিকানা : ৩৪০/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪, মোবাইল : ০১৯ ১১৮০ ৪৫৮১
2025 © All rights reserved দৈনিক মাতৃছায়া