আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, লক্ষ্মীপুর : ঈদের ছুটি শেষে পরিবার থেকে বিদায় নিয়ে মোটরসাইকেলে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন জাহিদ হাসান শাওন (২৪)। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই থেমে গেল তার জীবন। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া এলাকায় বাসচাপায় মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন তিনি।
১৩ জুন (শুক্রবার) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে মোগরাপাড়ার মাঝামাঝি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শাওনের মোটরসাইকেলটি আচমকা ব্রেক কষার সময় স্লিপ করে পড়ে গেলে পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি বাস তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিহত শাওনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১নং উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড পূর্ব বিজয় নগর গ্রামে সর্দার বাড়ী । তিনি ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা শেষ করে নর্দান ইউনিভার্সিটিতে তড়িৎকৌশল (EEE) বিভাগে বিএসসি পড়ছিলেন। পরিবারের স্বপ্ন ছিল ছেলেটি একদিন ইঞ্জিনিয়ার হয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে। সেই স্বপ্ন সড়কে থেমে গেল চিরতরে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনার পর বাসটি দ্রুত পালিয়ে যায়। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে চালক ও বাস শনাক্তে চেষ্টা চলছে। দ্রুতই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাওনের মৃত্যুর খবরে তার বন্ধুদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার বন্ধু রাহাত বলেন, গতকালই তো দেখা হয়েছিল। কত হাসিখুশি ছিল। বিশ্বাসই হচ্ছে না, আজ তাকে লাশ হয়ে দেখছি। এ শোক কীভাবে সইবো?
শাওনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে যান কাঁচপুর হাইওয়ে থানায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাতে ফ্রিজিং গাড়িতে করে ছেলের মরদেহ নিয়ে ফেরেন গ্রামের বাড়িতে। চোখে জল, কণ্ঠে কান্না ধরে রেখে তিনি বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল। কত স্বপ্ন ছিল ছেলেটাকে নিয়ে। ভেবেছিলাম ইঞ্জিনিয়ার হবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। কিন্তু বাসচাপায় আমার সব শেষ। আমি এর বিচার চাই।
জানা গেছে, ১৪ জুন (শনিবার) বিকেল ৫টায় শাওনের নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : এম, এইচ মোতালেব খান, নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ মনির হোসেন কাজী
ঠিকানা : ৩৪০/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪, মোবাইল : ০১৯ ১১৮০ ৪৫৮১
2025 © All rights reserved দৈনিক মাতৃছায়া