মোঃ রুবেল হোসেন, দিনাজপুর : দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় প্রবাসী জাকির দেশে মরুভূমির খেজুর চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। ফুলবাড়ী সজনপুকুর গ্রামের জাকির হোসেন জানালেন, সৌদি ও কুয়েতে ২০ বছর প্রবাসী জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। সেখানে থাকার সময়ে মরুভূমির ফল চাষ সম্পর্কে কারিগরি প্রশিক্ষণ নেন। দেশে ফেরার সময় ১২ কেজি পাকা খেজুর নিয়ে আসেন। সেই খেজুরগুলো থেকে চারা তৈরি করেন নিজেই।
প্রথম পর্যায়ে ৩০ শতক জমিতে আজওয়া, মরিয়ম, খলিজি, মেডজুল, বারহি ও আম্বার জাতের খেজুর বাগান তৈরি করেন। এখন খেজুরগাছগুলোর বয়স ৫ থেকে ৬ বছর। গত ২০২৫ সালে প্রথম ১৯ টি গাছে ফল এসেছিল। সেই চারা গাছগুলো এখন পরিপূর্ণ গাছে পরিণত হয়েছে। প্রত্যেকটি গাছেই থরে থরে ঝুলে পড়েছে খেজুর ফল। মিষ্টি স্বাদের এসব খেজুর।
শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ২৯টি খেজুর গাছের চারা রোপণ করেছিলেন। এখন দুই একর জমিতে খেজুরের বাগান। অনেকে চারা গাছ কিনতে অগ্রিম অর্থ দিয়ে রাখছেন।
প্রথম পর্যায়ে ৩টি গাছে প্রচুর পরিমাণে খেজুর আসে। তারপর সে ফলগুলো স্থানীয়দের খাওয়ানোসহ কিছু চারা তৈরি করেন। এ বছর ১৯টি গাছে ফল এসেছে। প্রতিটি গাছের ৮ থেকে ৯টি গাছায় খেজুর ধরেছে। ৫০ থেকে ৫৫টি খেজুরের ওজন এক কেজি হবে। খেজুরের বীজ থেকে চারা গাছ হতে প্রায় দেড় থেকে দুবছর সময় লাগে। এ ধরনের খেজুর বাগান করতে প্রয়োজন হয় উঁচু জমির।
এ উদ্যোক্তা বলেন, চারাগাছ রোপণের কয়েক বছরেই ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে প্রতিটি চারা বিক্রি করছি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। শুধু উত্তরবঙ্গই নয়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারাগাছ সংগ্রহ করছেন লোকজন। একটি খেজুরগাছ ৭০ থেকে ৮০ বছর ধরে ফল দেয়। বর্তমানে বাগানে উৎপাদিত খেজুর ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। ইতিমধ্যে দেড় হাজার চারা প্রায় ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, প্রবাসী জাকির হোসেন মরুভূমির খেজুর ফুলবাড়ীর মাটিতে ফলিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তার উৎপাদিত খেজুর ও খেজুর চারা বাজারজাতকরণের বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : এম, এইচ মোতালেব খান, নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ মনির হোসেন কাজী
ঠিকানা : ৩৪০/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪, মোবাইল : ০১৯ ১১৮০ ৪৫৮১
2025 © All rights reserved দৈনিক মাতৃছায়া