
পারভেজ আহমদ রাজু, সিলেট : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন নতুন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর কিছুদিনের মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। তিনি জানিয়েছেন, সাদাপাথরে পাথর পুনঃস্থাপন, লুটেরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও প্রতিরোধ—এই তিন বিষয় সামনে রেখে প্রশাসন কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সাদাপাথর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নতুন জেলা প্রশাসক এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আর যাতে সিলেটের পাথর লুট হতে না পারে বা বাইরে যেতে না পারে, সে জন্য আমরা আরও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করব। লুণ্ঠিত পাথরগুলো কোথায় কোথায় আছে, সেটি খুঁজে বের করে আমরা রি–ইনস্টল করছি। আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যে সাদাপাথর আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নতুন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। শাস্তির চেয়ে অপরাধ প্রতিরোধই উত্তম।’
সাদাপাথর পরিদর্শন শেষে নতুন জেলা প্রশাসক কোম্পানীগঞ্জে তিনটি ক্রাশার মিলে অভিযান চালান এবং সেখানে থাকা পাথর জব্দ করার নির্দেশ দেন স্থানীয় প্রশাসনকে। অভিযান চলাকালে জেলা প্রশাসক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আর একটি পাথরও যদি সরানো হয়, জীবন ঝালাপালা করে দেব। বাংলাদেশ সীমানার যেখানেই পাথর সরানোর চেষ্টা হবে, সেখান থেকেই অপরাধীদের ধরে আনা হবে।’
সারওয়ার আলম বলেন, সাদাপাথরকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কারা এই লুটের সঙ্গে জড়িত, কেন ও কীভাবে এটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। জনগণ এই লুটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে।
সারওয়ার আলম প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (সংযুক্ত) হিসেবে এই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ আজ তাঁর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর থেকে সিলেটের সংরক্ষিত এলাকা, পর্যটনকেন্দ্র ও পাথর কোয়ারি থেকে ব্যাপকভাবে বালু ও পাথর লুট শুরু হয়। সম্প্রতি সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গণলুটের ঘটনা ঘটে, যা দেশে-বিদেশে সমালোচিত হয়েছে। মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে সোমবার বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 









