০২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেল ২৪ জন, আবেগে কাঁদলেন অভিভাবকরা

‎‎আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, ‎লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরে কোনো ধরনের  উৎকোচ কিংবা তদবির ছাড়াই মাত্র ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেয়েছেন ২৪ জন। অনন্য এই দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ প্রশাসন। এবার জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে ২৪ জন নিয়োগ পেয়েছেন। ৫জন অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছেন।
‎
‎যাদের লাগেনি কোনো বাড়তি উৎকোচ কিংবা হাইপ্রোফাইল সুপা-রিশ। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন যোগ্যরা। কৃষক,
‎দিনমজুর, ভ্যানচালক ও মৎসজীবী পরিবারের সন্তানরা নিয়োগ পেয়েছেন নিজ নিজ যোগ্যতায়।
‎
‎সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নে দিনমজুর নিজাম উদ্দিনের ছেলে মো. বাহার উদ্দিন শরীফ। এদিকে সচ্ছতার ভিত্তিতে মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে মাত্র ১২০ টাকায় (আবেদন ফি) চাকরি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন ।
‎
‎কৃষকের সন্তান মোঃ ইসরাফিল বলেন, আমার বাবা একজন কৃষক, কৃষিকাজ করে চলে আমাদের সংসার। গত২বারও কনস্টেবল পদে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করিনি , কিন্তু হাল ছাড়েনি। এবার চাকুরীটা পেয়ে খুবই আনন্দ লাগছে। সেটা ভাষা প্রকাশ করতে পারছিনা। দেশ ও মানুষের সেবায় কাজ করবো। এমনটাই প্রত্যাশা করি।
‎
‎‎রামগতি উপজেলার মোঃ নুর উদ্দিন বলেন, পুলিশে চাকুরী হবে, তা বিশ্বাস হয়নি। কোনো সুপা-রিশ ছিল না। ভেবেছিলাম চাকরিটা হবে না। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় নাম দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। বর্তমান পুলিশ প্রশাসন ও নিয়োগ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ এক অনন্য নজীর স্থাপন করেছেন। আমি কৃতজ্ঞ। এখন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পারব।
‎
‎‎জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্যে অনুযায়ী জানা যায়, এর আগে গত আগস্ট  মাসের১৩ থেকে ১৫তারিখ পর্যন্ত তিনদিন পুলিশের কনস্টেবল পদে  যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই পদে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মোট  মোট ৯১০ জন চাকরি প্রার্থী আবেদন করেন। এরপর আগস্ট মাসের ২৯তারিখে  লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ২২১জন।  এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়ে ৪৭ জনের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) অনুষ্ঠিত হয় বুধবার ১০সেপ্টেম্বর। মৌখিক পরীক্ষার পর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেন জেলা পুলিশ প্রশাসন।
‎
‎জেলা পুলিশ প্রশাসনের স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিয়ে জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে ইতিবাচক আলোচনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ লাইন্স কার্যালয় থেকে কনস্টেবল পদে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করেন জেলা পুলিশ সুপার মো.আকতার হোসেন।
‎
‎‎মাত্র ১২০ টাকা আবেদন ফি দিয়ে চাকরি পেয়েছেন রায়পুর উপজেলার হায়দারগঞ্জের এলাকার প্রবাসী সুমন ব্যাপারীর মেয়ে সুমাইয়া আক্তার । নিজের চাকরি প্রাপ্তির খবরে আনন্দের কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমাইয়া ও তার মা হোসনেয়ারা বেগম। একই চিত্র চন্দ্রগঞ্জ থানার মোঃজাহিদ হাসান সহ চাকরী পাওয়া সবার। তাদের স্বজনরা বলেন, ঘুষ কিংবা তদবির ছাড়াই চাকরি হয়েছে। এ এক বিরাট ব্যাপার। সৎ মানুষের হাতে দেশ ও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে এরকম পরিবর্তন আসবে। প্রত্যেকটি পরিবারে আজ সবাই খুশি। পুলিশ সুপার মহোদয়সহ সবার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।
‎তালিকায় আরও ৫ প্রার্থীকে অপেক্ষমান হিসেবে রাখা হয়েছে। তালিকা প্রকাশের পরপরেই উত্তীর্ণ প্রার্থী ও তাদের স্বজনরা আনন্দ অশ্রুতে খুশির বহিঃ প্রকাশ ঘটান।
‎
‎জেলা পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেন বলেন, সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে মেধাবী ও যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। যোগ্যরাই তিন ধাপের পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। আমরা যোগ্যদের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার কাজ করেছি মাত্র। উত্তীর্ণদের জন্য শুভ কামনা জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকের মাঝে ধারণা আছে পুলিশে চাকরি মানেই ঘুষ ও তদবিরের জোর লাগে। কিন্তু আমরা সেই ধারণা পাল্টে দিতে চাই। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত উপায়ে নতুন করে দেশ গড়তে হবে। এই কাজে সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে। সৎ পথে দেখে পুলিশের ভাবমূর্তি ধরে রাখবে নতুন চাকরী পাওয়া সবাই। এমটাই আশা করেন তিনি।
‎

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

ছয় দিন ধরে বন্ধ চার চা বাগান, ডিসির কাছে শ্রমিকদের স্মারকলিপি

লক্ষ্মীপুরে ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেল ২৪ জন, আবেগে কাঁদলেন অভিভাবকরা

আপডেটের সময় : ০৩:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

‎‎আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, ‎লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরে কোনো ধরনের  উৎকোচ কিংবা তদবির ছাড়াই মাত্র ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেয়েছেন ২৪ জন। অনন্য এই দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ প্রশাসন। এবার জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে ২৪ জন নিয়োগ পেয়েছেন। ৫জন অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছেন।
‎
‎যাদের লাগেনি কোনো বাড়তি উৎকোচ কিংবা হাইপ্রোফাইল সুপা-রিশ। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন যোগ্যরা। কৃষক,
‎দিনমজুর, ভ্যানচালক ও মৎসজীবী পরিবারের সন্তানরা নিয়োগ পেয়েছেন নিজ নিজ যোগ্যতায়।
‎
‎সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নে দিনমজুর নিজাম উদ্দিনের ছেলে মো. বাহার উদ্দিন শরীফ। এদিকে সচ্ছতার ভিত্তিতে মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে মাত্র ১২০ টাকায় (আবেদন ফি) চাকরি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন ।
‎
‎কৃষকের সন্তান মোঃ ইসরাফিল বলেন, আমার বাবা একজন কৃষক, কৃষিকাজ করে চলে আমাদের সংসার। গত২বারও কনস্টেবল পদে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করিনি , কিন্তু হাল ছাড়েনি। এবার চাকুরীটা পেয়ে খুবই আনন্দ লাগছে। সেটা ভাষা প্রকাশ করতে পারছিনা। দেশ ও মানুষের সেবায় কাজ করবো। এমনটাই প্রত্যাশা করি।
‎
‎‎রামগতি উপজেলার মোঃ নুর উদ্দিন বলেন, পুলিশে চাকুরী হবে, তা বিশ্বাস হয়নি। কোনো সুপা-রিশ ছিল না। ভেবেছিলাম চাকরিটা হবে না। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় নাম দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। বর্তমান পুলিশ প্রশাসন ও নিয়োগ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ এক অনন্য নজীর স্থাপন করেছেন। আমি কৃতজ্ঞ। এখন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পারব।
‎
‎‎জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্যে অনুযায়ী জানা যায়, এর আগে গত আগস্ট  মাসের১৩ থেকে ১৫তারিখ পর্যন্ত তিনদিন পুলিশের কনস্টেবল পদে  যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই পদে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মোট  মোট ৯১০ জন চাকরি প্রার্থী আবেদন করেন। এরপর আগস্ট মাসের ২৯তারিখে  লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ২২১জন।  এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়ে ৪৭ জনের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) অনুষ্ঠিত হয় বুধবার ১০সেপ্টেম্বর। মৌখিক পরীক্ষার পর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেন জেলা পুলিশ প্রশাসন।
‎
‎জেলা পুলিশ প্রশাসনের স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিয়ে জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে ইতিবাচক আলোচনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ লাইন্স কার্যালয় থেকে কনস্টেবল পদে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করেন জেলা পুলিশ সুপার মো.আকতার হোসেন।
‎
‎‎মাত্র ১২০ টাকা আবেদন ফি দিয়ে চাকরি পেয়েছেন রায়পুর উপজেলার হায়দারগঞ্জের এলাকার প্রবাসী সুমন ব্যাপারীর মেয়ে সুমাইয়া আক্তার । নিজের চাকরি প্রাপ্তির খবরে আনন্দের কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমাইয়া ও তার মা হোসনেয়ারা বেগম। একই চিত্র চন্দ্রগঞ্জ থানার মোঃজাহিদ হাসান সহ চাকরী পাওয়া সবার। তাদের স্বজনরা বলেন, ঘুষ কিংবা তদবির ছাড়াই চাকরি হয়েছে। এ এক বিরাট ব্যাপার। সৎ মানুষের হাতে দেশ ও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে এরকম পরিবর্তন আসবে। প্রত্যেকটি পরিবারে আজ সবাই খুশি। পুলিশ সুপার মহোদয়সহ সবার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।
‎তালিকায় আরও ৫ প্রার্থীকে অপেক্ষমান হিসেবে রাখা হয়েছে। তালিকা প্রকাশের পরপরেই উত্তীর্ণ প্রার্থী ও তাদের স্বজনরা আনন্দ অশ্রুতে খুশির বহিঃ প্রকাশ ঘটান।
‎
‎জেলা পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেন বলেন, সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে মেধাবী ও যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। যোগ্যরাই তিন ধাপের পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। আমরা যোগ্যদের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার কাজ করেছি মাত্র। উত্তীর্ণদের জন্য শুভ কামনা জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকের মাঝে ধারণা আছে পুলিশে চাকরি মানেই ঘুষ ও তদবিরের জোর লাগে। কিন্তু আমরা সেই ধারণা পাল্টে দিতে চাই। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত উপায়ে নতুন করে দেশ গড়তে হবে। এই কাজে সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে। সৎ পথে দেখে পুলিশের ভাবমূর্তি ধরে রাখবে নতুন চাকরী পাওয়া সবাই। এমটাই আশা করেন তিনি।
‎