
মোল্লা নাসির উদ্দিন : ৪ হাজার হজ যাত্রীর কোরবানির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এসেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে । উক্ত টাকা হজ্ব নীতিমালা অনুসারে সৌদি ব্যাংক অথবা পোস্ট অফিসে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও এ সিন্ডিকেট কারণে তা সাইফুল ইসলাম নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার হাতে তুলে দেয়া হয়। জানা গেছে উক্ত নেতার মাধ্যমে সংগৃহীত টাকা মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাভাগ বাটোয়ারা করে নেন । সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে বাংলাদেশ হজ মিশন অফিস সূত্রে জানা গেছে মক্কায় নিযুক্ত বাংলাদেশের কাউন্সিলর (হজ্জ) জহির আহমেদ হজ প্রশাসনিক টিমের কর্মকর্তাদের ডেকে বলেন গাইডদের মাধ্যমে হাজীদের কোরবানির টাকা সংগ্রহ করে নিতে এবং তা ব্যাংকে জমা না দিয়ে তাদের নির্দেশিত ব্যক্তির নিকট হস্তান্তরের জন্য। কাউন্সিলের হজ এটি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতনের নির্দেশ বলে প্রশাসনের টিমের সদস্যদের অবহিত করেন। এ সময় ধর্ম সচিব আফতাব উদ্দিন প্রামানিক এবং ধর্ম উপদেষ্টা আ,ফ,ম,খালেদ হোসাইন উক্ত বাড়ীতে অবস্থান করছিলেন । উক্ত নির্দেশ মোতাবেক প্রশাসনিক টিমের সদস্যরা হজ্ব গাইডদের ডেকে কোরবানির জন্য সংগ্রহকৃত ৩ কোটি টাকা তুলে দেন জনৈক সাইফুল ইসলামের কাছে। এতে হজ্ব গাইডদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কারণ সরকারি যে হজ্ব নীতিমালা সেখানে বলা ছিল হাজীদের কোরবানির টাকা সৌদি ব্যাংক অথবা সৌদি পোস্ট অফিসে জমা দিতে হবে। সাইফুল ইসলাম সংগৃহীত এই টাকা নিয়ে কোন কোরবানি করেননি মর্মে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান। এভাবে হজ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ এবং হজ বিনষ্টের অভিযোগ উঠেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য সাইফুল ইসলাম নিজেকে একজন ব্যবসায়ী পরিচয় দেন। কখনো হজ এজেন্সির মালিক, কখনো পুস্তক প্রকাশক, কখনো স্বর্ণের দোকানের মালিক বলে পরিচয় দেন। তিনি বায়তুল মোকাররমের পলাতক খতিব মাওলানা রুহুল আমিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ধর্ম উপদেষ্টার সাথে ঘনঘন বিদেশ সফর করেন। বিভিন্ন সময় তাকে সারাদিন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। আলোচ্য সাইফুল ইসলাম সাবেক পুলিশের আইজি বেনজিরের ঘনিষ্ঠ এবং পরবর্তীতে পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। নিজেকে প্রকাশক পরিচয় দিয়ে তিনি ধর্ম উপদেষ্টা আ,ফ,ম, খালিদ হোসেনের কয়েকটি বই ছাপিয়েছেন মর্মে মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 









