০৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিচারের দাবিতে ছেলের কাটা পা নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা

হাফিজুর রহমান লাভলু, স্টাফ রিপোর্টার, শেরপুর : শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে মো. সাকিল মিয়া (১৮) নামে এক স্কুলছাত্রের হাতে-পায়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলা পা হাতে নিয়ে বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা মো. আমির হোসেন। বুধবার(১৮ জুন) তার ছেলের কাটা পা হাতে নিয়ে নকলা উপজেলার সেনা ক্যাম্প, থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও শেরপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান তিনি এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে নৃশংস ওই ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এর আগে গত ১৫ জুন নকলা উপজেলার গণপদ্দী ইউনিয়নের বারইকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামে স্কুলছাত্র সাকিলের ওপর ওই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পরদিন পার্শ্ববর্তী আদমপুর গ্রামের লালু বাদশার ছেলে মো. হাসিবুল ও মো. অন্তিম, মো. ইস্রাফিলসহ ৫ জনকে স্বনামে ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে নকলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সাকিলের বাবা।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহদুয়েক আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নকলা উপজেলার বারইকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিপড়ুয়া সাকিলের সাথে একই স্কুলের ছাত্র মো. হাসিবুলের কথা কাটাকাটি ও এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়রা মিটমাট করে দেয়। কিন্তু এরই জের ধরে গত ১৫ জুন রোববার সন্ধ্যার দিকে সাকিলের উপর অতর্কিত হামলা চালায় হাসিবুলসহ অন্যান্য আসামিরা। ওইসময় সাকিলের হাতে ও বাম পায়ে দা দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। পরে সাকিলের ডাক-চিৎকারে তার স্বজন ও স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।পরে সাকিলের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে নিয়ে সাকিলের বাম পা হাটু থেকে কেটে ফেলা হয়।

সাকিলের স্বজনেরা জানান, হামলার সময় সাকিল বাড়ির বাইরে ছিলেন। হঠাৎ হাসিবুল ও অন্যরা এসে দা দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। তার ডাকচিৎকারে লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে নকলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল কাশেম বলেন, ওই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার আসামিদের ধরতে আমরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছি।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

ছয় দিন ধরে বন্ধ চার চা বাগান, ডিসির কাছে শ্রমিকদের স্মারকলিপি

বিচারের দাবিতে ছেলের কাটা পা নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা

আপডেটের সময় : ১০:০১:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫

হাফিজুর রহমান লাভলু, স্টাফ রিপোর্টার, শেরপুর : শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে মো. সাকিল মিয়া (১৮) নামে এক স্কুলছাত্রের হাতে-পায়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলা পা হাতে নিয়ে বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা মো. আমির হোসেন। বুধবার(১৮ জুন) তার ছেলের কাটা পা হাতে নিয়ে নকলা উপজেলার সেনা ক্যাম্প, থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও শেরপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান তিনি এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে নৃশংস ওই ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এর আগে গত ১৫ জুন নকলা উপজেলার গণপদ্দী ইউনিয়নের বারইকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামে স্কুলছাত্র সাকিলের ওপর ওই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পরদিন পার্শ্ববর্তী আদমপুর গ্রামের লালু বাদশার ছেলে মো. হাসিবুল ও মো. অন্তিম, মো. ইস্রাফিলসহ ৫ জনকে স্বনামে ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে নকলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সাকিলের বাবা।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহদুয়েক আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নকলা উপজেলার বারইকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিপড়ুয়া সাকিলের সাথে একই স্কুলের ছাত্র মো. হাসিবুলের কথা কাটাকাটি ও এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়রা মিটমাট করে দেয়। কিন্তু এরই জের ধরে গত ১৫ জুন রোববার সন্ধ্যার দিকে সাকিলের উপর অতর্কিত হামলা চালায় হাসিবুলসহ অন্যান্য আসামিরা। ওইসময় সাকিলের হাতে ও বাম পায়ে দা দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। পরে সাকিলের ডাক-চিৎকারে তার স্বজন ও স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।পরে সাকিলের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে নিয়ে সাকিলের বাম পা হাটু থেকে কেটে ফেলা হয়।

সাকিলের স্বজনেরা জানান, হামলার সময় সাকিল বাড়ির বাইরে ছিলেন। হঠাৎ হাসিবুল ও অন্যরা এসে দা দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। তার ডাকচিৎকারে লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে নকলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল কাশেম বলেন, ওই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার আসামিদের ধরতে আমরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছি।