
এস এম সানোয়ার : রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকার ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর সেক্টরের বস্তি, ফুটপাত, লেকপার, নদী-নালা, খাল বিল এবং দিয়াবাড়ি এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও অনুমোদনহীন বিনোদন কেন্দ্রগুলোর রমরমা বাণিজ্য নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, যার ফলে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এছাড়াও, এসব স্থানে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তার চরম অভাব এবং বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তুরাগের বিস্তীর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে বিভিন্ন বস্তি, ফুটপাত এবং অস্থায়ী স্থাপনায় উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি চক্র রাতারাতি ‘আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ’ বনে যাচ্ছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
লেকপার এবং দিয়াবাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বিনোদন কেন্দ্র। বিশেষ করে খালে বিনোদনের নামে নৌকা বাণিজ্যের এক জমজমাট কারবার চলছে। প্রতিটি নৌকায় ওঠার জন্য দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু এসব নৌকায় যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেই। সম্প্রতি নৌকা থেকে পানিতে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে কিছুদিন এই বাণিজ্য বন্ধ ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর আবারও আগের মতোই নৌ-বাণিজ্য শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজউক বা প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছাড়াই এই বিনোদন কেন্দ্রগুলো পরিচালিত হচ্ছে। ১৮ নম্বর সেক্টরে সুরুজ মিয়ার নৌকা বাণিজ্য এর একটি বড় উদাহরণ, যেখানে ৩০ মিনিটের জন্য ২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় মাদকাসক্তদের আনাগোনা এবং চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলোর মাঝেও যেন এক অন্ধকার জগৎ তৈরি হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি স্বঘোষিত টোকেনের মাধ্যমে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে।
সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণ প্রশ্ন তুলছে, কাদের ছত্রছায়ায় এবং কিসের ক্ষমতায় এসব অবৈধ কার্যক্রম চলছে? প্রশাসন কেন এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এই অবৈধ বাণিজ্য এবং অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী মহল।
স্থানীয়দের দাবি, এই অবৈধ বিদ্যুৎ বাণিজ্য বন্ধ করা হলে একদিকে যেমন সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হবে, তেমনি অন্যদিকে অনুমোদনহীন বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ হলে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
রিপোর্টারের নাম 









