০১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিলমারীতে হাতের চাপে ভেঙে যাচ্ছে সেতুর গাইড ওয়ালের স্লাব!

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : ১১:০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৪৩ টাইম ভিউ

মোঃ রুবেল মিয়া, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামর চিলমারীতে পাত্রখাতা খালের উপর সেতু নির্মাণে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী
ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটির সংযোগ
সড়কের গাইড ওয়ালের স্লাব হাতের সামান্য চাপেই ভেঙে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ‘সেতুটির মূল কাজ শেষ হয়েছে, এখন সংযোগ সড়কের গাইড ওয়ালের কাজ চলছে। কিন্তু গাইড ওয়ালের স্লাবে হাতের চাপ পড়লেই স্লাবের কংক্রিট ভেঙে ধূলায় পরিণত হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, কী পরিমাণ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তথ্যমতে, ২০২১-২২ অর্থবছরে রংপুর বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ৬৮ মিটার সেতুটির কাজ ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর শুরু হয়।
দরপত্র অনুযায়ী সেতুটির কাজ ২০২৩ সালের ৮ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি শেষ করতে পারেনি। পরে কাজটির মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ৩ কোটি ৪০ লাখ ৩১ হাজার ২৯৬ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুটির কাজ করছে মেসার্স বসুন্ধরা এ- মেসার্স খায়রুল এন্টার প্রাইজ।
সরেজমিন সেতু এলাকা গিয়ে দেখা যায়, মূল সেতুর কাজ শেষে সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। সংযোগ সড়কের গাইড ওয়ালে ব্যবহৃত কংক্রিটের ভাঙ্গা স্লাব জড়ো করে রাখা হয়েছে।
এ সময় পাত্রখাতা রিয়াজুল জান্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমরা দেখেছি, নির্মাণকাজের সময় সিমেন্ট-পাথরের গুণগত মান ঠিক ছিল না। এখন তার ফল ভোগ করছি। স্লাবে হাতের চাপ পড়লেই স্লাবের কংক্রিট ভেঙে ধূলায় পরিণত হচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই সেতু আমাদের চলাচলের একমাত্র পথ। সেতু নির্মাণে এতটাই নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার হয়েছে যে সেতুটির স্থায়ীত্ব নিয়ে আমরা শঙ্কায় রয়েছি। নানা অনিয়মের মধ্যে দিয়ে সেতুটির কাজ সম্পন্ন হচ্ছে, অথচ বারবার স্থানীয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করেও কাজের গুণগত মান ঠিক হয়নি।’
এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী লেলিন এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রমনা মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আকা বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি।
জননিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।’
উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সেতু এলাকায় যাই।
সেখানে রিজেক্টেড কিছু ব্লক যেগুলো স্লাবের উপর রেখে দিছে, আমি তাৎক্ষণিভাবে সেগুলোকে অপসারণ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে বলি। অবশ্যই এ ধরণের নির্মাণের ব্লক ব্যবহার করা হবে না।’

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

ছয় দিন ধরে বন্ধ চার চা বাগান, ডিসির কাছে শ্রমিকদের স্মারকলিপি

চিলমারীতে হাতের চাপে ভেঙে যাচ্ছে সেতুর গাইড ওয়ালের স্লাব!

আপডেটের সময় : ১১:০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মোঃ রুবেল মিয়া, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামর চিলমারীতে পাত্রখাতা খালের উপর সেতু নির্মাণে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী
ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটির সংযোগ
সড়কের গাইড ওয়ালের স্লাব হাতের সামান্য চাপেই ভেঙে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ‘সেতুটির মূল কাজ শেষ হয়েছে, এখন সংযোগ সড়কের গাইড ওয়ালের কাজ চলছে। কিন্তু গাইড ওয়ালের স্লাবে হাতের চাপ পড়লেই স্লাবের কংক্রিট ভেঙে ধূলায় পরিণত হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, কী পরিমাণ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তথ্যমতে, ২০২১-২২ অর্থবছরে রংপুর বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ৬৮ মিটার সেতুটির কাজ ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর শুরু হয়।
দরপত্র অনুযায়ী সেতুটির কাজ ২০২৩ সালের ৮ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি শেষ করতে পারেনি। পরে কাজটির মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ৩ কোটি ৪০ লাখ ৩১ হাজার ২৯৬ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুটির কাজ করছে মেসার্স বসুন্ধরা এ- মেসার্স খায়রুল এন্টার প্রাইজ।
সরেজমিন সেতু এলাকা গিয়ে দেখা যায়, মূল সেতুর কাজ শেষে সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। সংযোগ সড়কের গাইড ওয়ালে ব্যবহৃত কংক্রিটের ভাঙ্গা স্লাব জড়ো করে রাখা হয়েছে।
এ সময় পাত্রখাতা রিয়াজুল জান্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমরা দেখেছি, নির্মাণকাজের সময় সিমেন্ট-পাথরের গুণগত মান ঠিক ছিল না। এখন তার ফল ভোগ করছি। স্লাবে হাতের চাপ পড়লেই স্লাবের কংক্রিট ভেঙে ধূলায় পরিণত হচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই সেতু আমাদের চলাচলের একমাত্র পথ। সেতু নির্মাণে এতটাই নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার হয়েছে যে সেতুটির স্থায়ীত্ব নিয়ে আমরা শঙ্কায় রয়েছি। নানা অনিয়মের মধ্যে দিয়ে সেতুটির কাজ সম্পন্ন হচ্ছে, অথচ বারবার স্থানীয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করেও কাজের গুণগত মান ঠিক হয়নি।’
এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী লেলিন এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রমনা মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আকা বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি।
জননিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।’
উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সেতু এলাকায় যাই।
সেখানে রিজেক্টেড কিছু ব্লক যেগুলো স্লাবের উপর রেখে দিছে, আমি তাৎক্ষণিভাবে সেগুলোকে অপসারণ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে বলি। অবশ্যই এ ধরণের নির্মাণের ব্লক ব্যবহার করা হবে না।’