১০:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সবুজ পাতায় স্বপ্নের ফসল

রায়পুরে কম খরচ ও লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে পান চাষ

‎রাকিব হোসাইন, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর : ‎উৎপাদন খরচ কম, বহুবর্ষজীবী ও লাভজনক হওয়ায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে পান চাষ। ঐতিহ্যবাহী এই ফসল ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পান চাষিরা।

‎‎উপজেলার উত্তর চর আবাবিল, দক্ষিণ চর আবাবিল, চর মোহনা, বামনী, কেরোয়া ও চরপাতাসহ একাধিক এলাকায় নিজস্ব জমিতে পান চাষ করে ব্যাপক সফলতা পাচ্ছেন কৃষকরা। নারিকেল, সুপারি, সয়াবিন, আলু ও ধানের তুলনায় পান চাষে লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই পান চাষে ঝুঁকছেন।

‎‎চাষিরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে পান বরজ তৈরি করতে শুরুতে এক থেকে সোয়া এক লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে খরচ তুলনামূলক অনেক কমে যায়। বরজ স্থাপনের পর দ্বিতীয় বছর থেকেই প্রতি বিঘায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব হচ্ছে।

‎‎রায়পুর পৌর শহরের নতুন বাজার, হায়দরগঞ্জ ও ক্যাম্পেরহাট-এই তিনটি বাজারে প্রতিদিন সকালেই কোটি টাকার পান বেচাকেনা হয়। বরজে পান বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত পাইকারি বাজারে বিক্রি করা যায় বলে আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন চাষিরা।

‎‎চর আবাবিল এলাকার পান চাষি মফিজুর রহমান বলেন, প্রথম বছরে বরজ তৈরিতে বেশি খরচ হলেও পরের বছর শুধু সামান্য রক্ষণাবেক্ষণ করলেই চলে। বৈশাখের শেষ থেকে ভাদ্র পর্যন্ত পানের ভরা মৌসুম থাকে। তখন ভালো দাম পাওয়া যায়।সবচেয়ে বেশি দাম থাকে শীতকালে তখন পান উৎপাদন কম হয়।

‎‎উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর রায়পুরে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির কারণে চাষের পরিমাণ কমেছে। এর আগের বছর উপজেলায় প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছিল। খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় আগামীতে পান চাষ আবারও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

‎‎রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন,পান চাষকে আরও লাভজনক করতে কৃষকদের নিয়মিত তদারকি ও সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

‎ঐতিহ্য ও লাভ এই দুইয়ে ভর করে রায়পুরের পান চাষ এখন শুধু ফসল নয়, চাষিদের জন্য হয়ে উঠেছে দিন বদলের স্বপ্ন।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

ছয় দিন ধরে বন্ধ চার চা বাগান, ডিসির কাছে শ্রমিকদের স্মারকলিপি

সবুজ পাতায় স্বপ্নের ফসল

রায়পুরে কম খরচ ও লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে পান চাষ

আপডেটের সময় : ১২:১১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

‎রাকিব হোসাইন, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর : ‎উৎপাদন খরচ কম, বহুবর্ষজীবী ও লাভজনক হওয়ায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে পান চাষ। ঐতিহ্যবাহী এই ফসল ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পান চাষিরা।

‎‎উপজেলার উত্তর চর আবাবিল, দক্ষিণ চর আবাবিল, চর মোহনা, বামনী, কেরোয়া ও চরপাতাসহ একাধিক এলাকায় নিজস্ব জমিতে পান চাষ করে ব্যাপক সফলতা পাচ্ছেন কৃষকরা। নারিকেল, সুপারি, সয়াবিন, আলু ও ধানের তুলনায় পান চাষে লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই পান চাষে ঝুঁকছেন।

‎‎চাষিরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে পান বরজ তৈরি করতে শুরুতে এক থেকে সোয়া এক লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে খরচ তুলনামূলক অনেক কমে যায়। বরজ স্থাপনের পর দ্বিতীয় বছর থেকেই প্রতি বিঘায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব হচ্ছে।

‎‎রায়পুর পৌর শহরের নতুন বাজার, হায়দরগঞ্জ ও ক্যাম্পেরহাট-এই তিনটি বাজারে প্রতিদিন সকালেই কোটি টাকার পান বেচাকেনা হয়। বরজে পান বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত পাইকারি বাজারে বিক্রি করা যায় বলে আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন চাষিরা।

‎‎চর আবাবিল এলাকার পান চাষি মফিজুর রহমান বলেন, প্রথম বছরে বরজ তৈরিতে বেশি খরচ হলেও পরের বছর শুধু সামান্য রক্ষণাবেক্ষণ করলেই চলে। বৈশাখের শেষ থেকে ভাদ্র পর্যন্ত পানের ভরা মৌসুম থাকে। তখন ভালো দাম পাওয়া যায়।সবচেয়ে বেশি দাম থাকে শীতকালে তখন পান উৎপাদন কম হয়।

‎‎উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর রায়পুরে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির কারণে চাষের পরিমাণ কমেছে। এর আগের বছর উপজেলায় প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছিল। খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় আগামীতে পান চাষ আবারও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

‎‎রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন,পান চাষকে আরও লাভজনক করতে কৃষকদের নিয়মিত তদারকি ও সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

‎ঐতিহ্য ও লাভ এই দুইয়ে ভর করে রায়পুরের পান চাষ এখন শুধু ফসল নয়, চাষিদের জন্য হয়ে উঠেছে দিন বদলের স্বপ্ন।