১১:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমলনগরে ভূমি সেবায় অন্যন্য দৃষ্টান্ত, প্রসংসায় ভাসছেন এসিল্যান্ড

আরফানুল ইসলাম আকাশ : ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত ঘোষণা দিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন লক্ষীপুরের কমলনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত হোসাইন।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে গিয়ে ভূমি অফিসে টাঙানো দালালমুক্ত সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির বাস্তবতা লক্ষ্য করা যায়। সেবা প্রত্যাশীরা কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি অফিসে এসে নামজারি, মিসকেইসসহ ভূমিসংক্রান্ত যাবতীয় সেবা পাচ্ছেন। এমনকি জমি পরিমাপ বা হিসাব না বুঝলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় দ্রুত সমাধান মিলছে।

৩৮ তম বিসিএস ক্যাডারের প্রশাসনিক এই কমকর্তা গত ১৬/৪/২৫ তারিখে কমলনগর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতা ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে তিনি ধারাবাহিকভাবে ভূমি অফিসের অনিয়ম ও দালালচক্র নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি অফিসটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দালালমুক্ত ঘোষণা করা হয়।

দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি তিনি উপজেলার হাসপাতাল, ফার্মেসি, খাবার হোটেল, অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনসহ জনজীবনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেল, জরিমানা ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন, যা কমলনগর উপজেলায় একটি রেকর্ড বলে জানা গেছে।
ভূমি অফিসে নামজারির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জহির উদ্দিন বলেন, “আগে সেবা নিতে এসে মানুষ দালালের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার হতো। এখন নামজারিসহ গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অল্প সময়েই নিষ্পত্তি হচ্ছে। অফিসে আর দালালের আনাগোনা নেই, নেই ফাইলের জট কিংবা অনিয়ম।

স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে মোহাম্মদ আরাফাত হুসাইন একজন সৎ, দক্ষ ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে ইতোমধ্যেই পরিচিতি পেয়েছেন। মাত্র কয় মাসেই তিনি অফিসের সার্বিক কার্যক্রমে গতি এনে উন্নয়নমূলক পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনা ও নামজারি সেবা এখন সহজ ও সময়োপযোগী হয়েছে। সর্বোচ্চ ২৮ দিনের মধ্যেই কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন ছাড়াই নামজারি সম্পন্ন হচ্ছে।

এছাড়া খাল ও সরকারি সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাটি ও বালুখেকোদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আপোষহীন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন তিনি। অভিযোগ পেলেই দিন-রাত নির্বিশেষে ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছেন। সপ্তাহে একদিন মিসকেইস শুনানির নিয়ম থাকলেও বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)আরাফাত হোসাইন বলেন “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেবা প্রত্যাশীরা অনলাইনে আবেদন করে নির্ধারিত তারিখে এসে সেবা নিচ্ছেন। সরকারের নির্ধারিত ফি ছাড়া কোনো ধরনের লেনদেন হয়নি। অবৈধ সুবিধা বঞ্চিত কিছু মানুষ মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, তবে এতে আমার দায়িত্ব ও নৈতিকতায় কোনো প্রভাব পড়বে না।

তিনি আরও জানান, উপজেলার সকল সেবা প্রত্যাশীর জন্য কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি ভূমি অফিসের দরজা সবসময় খোলা রয়েছে।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

ছয় দিন ধরে বন্ধ চার চা বাগান, ডিসির কাছে শ্রমিকদের স্মারকলিপি

কমলনগরে ভূমি সেবায় অন্যন্য দৃষ্টান্ত, প্রসংসায় ভাসছেন এসিল্যান্ড

আপডেটের সময় : ১২:২৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

আরফানুল ইসলাম আকাশ : ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত ঘোষণা দিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন লক্ষীপুরের কমলনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত হোসাইন।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে গিয়ে ভূমি অফিসে টাঙানো দালালমুক্ত সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির বাস্তবতা লক্ষ্য করা যায়। সেবা প্রত্যাশীরা কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি অফিসে এসে নামজারি, মিসকেইসসহ ভূমিসংক্রান্ত যাবতীয় সেবা পাচ্ছেন। এমনকি জমি পরিমাপ বা হিসাব না বুঝলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় দ্রুত সমাধান মিলছে।

৩৮ তম বিসিএস ক্যাডারের প্রশাসনিক এই কমকর্তা গত ১৬/৪/২৫ তারিখে কমলনগর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতা ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে তিনি ধারাবাহিকভাবে ভূমি অফিসের অনিয়ম ও দালালচক্র নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি অফিসটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দালালমুক্ত ঘোষণা করা হয়।

দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি তিনি উপজেলার হাসপাতাল, ফার্মেসি, খাবার হোটেল, অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনসহ জনজীবনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেল, জরিমানা ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন, যা কমলনগর উপজেলায় একটি রেকর্ড বলে জানা গেছে।
ভূমি অফিসে নামজারির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জহির উদ্দিন বলেন, “আগে সেবা নিতে এসে মানুষ দালালের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার হতো। এখন নামজারিসহ গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অল্প সময়েই নিষ্পত্তি হচ্ছে। অফিসে আর দালালের আনাগোনা নেই, নেই ফাইলের জট কিংবা অনিয়ম।

স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে মোহাম্মদ আরাফাত হুসাইন একজন সৎ, দক্ষ ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে ইতোমধ্যেই পরিচিতি পেয়েছেন। মাত্র কয় মাসেই তিনি অফিসের সার্বিক কার্যক্রমে গতি এনে উন্নয়নমূলক পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনা ও নামজারি সেবা এখন সহজ ও সময়োপযোগী হয়েছে। সর্বোচ্চ ২৮ দিনের মধ্যেই কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন ছাড়াই নামজারি সম্পন্ন হচ্ছে।

এছাড়া খাল ও সরকারি সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাটি ও বালুখেকোদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আপোষহীন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন তিনি। অভিযোগ পেলেই দিন-রাত নির্বিশেষে ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছেন। সপ্তাহে একদিন মিসকেইস শুনানির নিয়ম থাকলেও বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)আরাফাত হোসাইন বলেন “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেবা প্রত্যাশীরা অনলাইনে আবেদন করে নির্ধারিত তারিখে এসে সেবা নিচ্ছেন। সরকারের নির্ধারিত ফি ছাড়া কোনো ধরনের লেনদেন হয়নি। অবৈধ সুবিধা বঞ্চিত কিছু মানুষ মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, তবে এতে আমার দায়িত্ব ও নৈতিকতায় কোনো প্রভাব পড়বে না।

তিনি আরও জানান, উপজেলার সকল সেবা প্রত্যাশীর জন্য কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি ভূমি অফিসের দরজা সবসময় খোলা রয়েছে।