
জাকির হোসেন সুজন, বিভাগীয় ব্যুরো রংপুর : রংপুরে হাজতি আসামির পক্ষে দাখিল করা একটি ওকালতনামায় আসামির স্বাক্ষর, ডেপুটি জেলারের স্বাক্ষর ও সিল জাল করার অভিযোগে আইনজীবী মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রংপুরের আইনজীবী ও বিচারাঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলা ও দায়রা আদালতের সাবেক বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে একটি মামলায় হাজতি আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করার সময় একটি ওকালতনামা দাখিল করা হয়। ওই ওকালতনামায় আসামির স্বাক্ষর এবং কারাগারের ডেপুটি জেলারের স্বাক্ষর ও সিল নিয়ে আদালতের সন্দেহ সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হলে তদন্ত প্রতিবেদনে ওকালতনামায় থাকা আসামির স্বাক্ষর, ডেপুটি জেলারের স্বাক্ষর ও সিল জাল করার বিষয়টি উঠে আসে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিনিয়র জেল সুপারের পক্ষ থেকেও প্রতিবেদন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ বাদী হয়ে আইনজীবী মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফের বিরুদ্ধে রংপুর কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানার সংশ্লিষ্ট আদালতে দণ্ডবিধির ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর CR ১০৯৩/২০২৬।
মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরও আইনজীবী আরিফুল ইসলাম আরিফ আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ না করে বাইরে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
সম্প্রতি একটি মামলার তদবিরের কাজে তিনি বৃহস্পতিবার (১৩আগস্ট) ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে কোতোয়ালি থানায় গেলে থানার কর্মকর্তা (ওসি) তার পরিচয় ও বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে কি না যাচাই করে পুলিশ। পরে তিনি থানা থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারের পর আইনজীবী মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে, এর আগেও রংপুর আইনজীবী সমিতি থেকে আইনজীবী আরিফুল ইসলাম আরিফের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন মক্কেলের গায়ে হাত তোলার অভিযোগে তাকে এক বছর আদালতে মামলা পরিচালনা থেকে বিরত রাখার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আইনজীবী আরিফুল ইসলাম আরিফের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা শেষ পর্যন্ত আদালতের বিচার ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাকির হোসেন সুজন, বিভাগীয় ব্যুরো রংপুর 









