
পটুয়াখালীর কলাপাড় গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের শেল্টারে থেকে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন বিএনপি নেতা শাহিন মৃধা। দলীয় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকলেও ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘মিফতা ট্রেডার্স’ নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক বহুজাতিক কোম্পানির কাছ থেকে কয়লা সরবরাহ ও জেটি ঘাট নির্মাণের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণা ও আত্মসাতের মামলা থাকলেও রহস্যজনক কারণে এখনো গ্রেফতার হননি। এমনকি আয়কর বিভাগ বা দুদকও তার সম্পদ অনুসন্ধানে এগোয়নি।
মো. নাছিম খান নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ১০ লাখ টাকা ধার নিয়ে আত্মসাৎ করেন শাহিন। আদালতে (মামলা নম্বর-সিআর-৩৫৭/২৩) মামলা চলমান। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মো. আনিস উদ্দীনের ৭০ টন ক্ষমতার একটি ক্রেন ভাড়া নিয়ে টাকা পরিশোধ না করে মাস্তান বাহিনী লেলিয়ে দেন শাহিন, যা নিয়ে মামলা হয় (সিআর-১০৪২/২২)।
জেএসি শিপিং লাইন্সের কাছ থেকেও ৮২ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণা করেন তিনি। ওই প্রতিষ্ঠানের ৪ কোটির বেশি টাকার মালামাল আত্মসাৎ সংক্রান্ত মামলাও চলমান (সিআর-১৯৩/২৩)।
সাম্প্রতিককালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটি ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর শাহিন বিএনপির ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ নিয়ে ২২ মে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিএনপি।
উপজেলা বিএনপি নেতারা শাহিনকে ‘আওয়ামী দোসর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তার ব্যক্তিগত অফিসটি মিনি বার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশি সখ্যতায় ফেরারী আসামি হয়েও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন তিনি।
ওসি মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, “শাহিন মৃধার বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
শাহিন মৃধার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সৌমিত্র সুমন, পটুয়াখালী 









