০২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালামাল কেনায় অনিয়ম, রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের ‘লঘুদণ্ড’

রাজশাহী ব্যুারো: মালামাল কেনায় অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক মো. বেলাল হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। তাকে এক বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১৮ জুন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. বেলাল হোসেন সরকার বাজারদরের তুলনায় অধিক দামে মালামাল ক্রয়ের অনুমোদন দেন। একইসঙ্গে, তিনি প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া পরিহার করে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিতে এলটিএম (লিমিটেড টেন্ডার মেথড) গ্রহণ করেন, যেখানে মাত্র ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অথচ, তালিকাভুক্ত ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাকি ১৭৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো তথ্যই জানানো হয়নি এবং অফিস নোটিশ বোর্ডেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।

তদন্তে উঠে আসে, টেন্ডারের আওতায় সরবরাহকৃত আসবাবপত্র—যেমন সোফাসেট, স্টিল চেয়ার ইত্যাদি—চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মান যাচাই না করেই গ্রহণ করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এমনকি, প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণে বাজারদরের তুলনায় অধিক দর দেখানো হলেও তা যাচাই না করেই অনুমোদন দেওয়া হয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব আ. স. ম. আশরাফুল আলম জানান, সরাসরি দুর্নীতির প্রমাণ না মিললেও প্রক্রিয়াগত অবহেলা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ‘কর্তব্যে অবহেলা’কে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এই অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(২)(খ) ধারায় মো. বেলাল হোসেন সরকারকে “বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি পরবর্তী এক বছরের জন্য স্থগিত” রাখার লঘুদণ্ড প্রদান করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, স্থগিতকৃত বর্ধিত বেতনের কোনো বকেয়া তিনি পাবেন না, তবে এক বছর পর থেকে নিয়ম অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি প্রযোজ্য হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

ছয় দিন ধরে বন্ধ চার চা বাগান, ডিসির কাছে শ্রমিকদের স্মারকলিপি

মালামাল কেনায় অনিয়ম, রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের ‘লঘুদণ্ড’

আপডেটের সময় : ০৩:২০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫

রাজশাহী ব্যুারো: মালামাল কেনায় অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক মো. বেলাল হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। তাকে এক বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১৮ জুন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. বেলাল হোসেন সরকার বাজারদরের তুলনায় অধিক দামে মালামাল ক্রয়ের অনুমোদন দেন। একইসঙ্গে, তিনি প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া পরিহার করে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিতে এলটিএম (লিমিটেড টেন্ডার মেথড) গ্রহণ করেন, যেখানে মাত্র ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অথচ, তালিকাভুক্ত ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাকি ১৭৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো তথ্যই জানানো হয়নি এবং অফিস নোটিশ বোর্ডেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।

তদন্তে উঠে আসে, টেন্ডারের আওতায় সরবরাহকৃত আসবাবপত্র—যেমন সোফাসেট, স্টিল চেয়ার ইত্যাদি—চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মান যাচাই না করেই গ্রহণ করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এমনকি, প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণে বাজারদরের তুলনায় অধিক দর দেখানো হলেও তা যাচাই না করেই অনুমোদন দেওয়া হয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব আ. স. ম. আশরাফুল আলম জানান, সরাসরি দুর্নীতির প্রমাণ না মিললেও প্রক্রিয়াগত অবহেলা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ‘কর্তব্যে অবহেলা’কে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এই অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(২)(খ) ধারায় মো. বেলাল হোসেন সরকারকে “বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি পরবর্তী এক বছরের জন্য স্থগিত” রাখার লঘুদণ্ড প্রদান করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, স্থগিতকৃত বর্ধিত বেতনের কোনো বকেয়া তিনি পাবেন না, তবে এক বছর পর থেকে নিয়ম অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি প্রযোজ্য হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।