
অপরাধ প্রতিবেদক: বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অজানা তথ্য, ডজনের উপরে বিভিন্ন কমিটির আহবায়ক ও কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ টিমসহ গড়েছে অবৈধ অর্থের পাহাড়। এ যেন এক আলাদিনের চেরাগ। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক (চ: দা:) মোহাম্মদ নাঈম গোলদার ডজন খানেক কমিটির আহবায়ক হিসেবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। ঠিক অনুরূপ ভাবে দূর্ণীতি করে অর্থের পাহাড়ও বানিয়েছেন। এদিকে এক নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব থাকায় এবং নিয়োগে দুর্নীতি করায় দুদক টিমের অভিযান করলেও এখন পর্যন্ত সেই অভিযোগেরো কোন সুরাহা হয়নি। আলোর মুখ দেখেনি সেই অভিযোগ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মোহাম্মদ নাঈম গোলদার নিজ জন্মস্থান বরিশালে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রয় করেছেন এবং ঢাকায় ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন নামে বেনামে এমন অভিযোগ তুলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারই সহকর্মীসহ অনেকেই। সরেজমিনে দেখা যায়, House Stone South Garden, বাসা ১৫/১৭, রাস্তা- ৮, ব্লক- এফ, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯ নামক আলিশান ও অভিজাত নিজ বাড়ির ৪ র্থ তলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন মোহাম্মদ নাঈম গোলদার।
আরো জানা যায়, নাঈম গোলদার মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় চাকুরী নিলেও অতি অল্প সময়ে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে বুনে গেছেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। অপরদিকে ৫ আগষ্টের পরবর্তী সময়ে পুরো পরিবারের পাসপোর্ট গ্রহণের জন্য অনাপত্তিপত্র নেন ০৯/১২/২০২৪ নাঈম গোলদার (NID No- 2697*****5361, পাসপোর্ট নং- E00***696)। একইসাথে স্ত্রী সন্তানদের নামেও নেন অনাপত্তিপত্র। পরিবারবর্গের বিবরণ মোসাঃ সাবেকুন্নাহার স্ত্রী যার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর NID No. 2695*****5768, কন্যা তামান্না সামীন সাথী
যার জন্ম নিবন্ধন BRC No. 2017********09338, ছেলে সাঈক মোহাম্মদ গোলদার যার জন্ম নিবন্ধন নাম্বার BRC No. 20227******09339।
উল্লেখ্য, ২০৪০ সাল পর্যন্ত আগামী ১২ বছর চাকুরির সুবাদে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক পথ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবেন এই বিধিবাম নাঈম গোলদার। একজন ঘুষখোর অফিসারের কারনে দেশের ঔষধ শিল্প যেমন হবে ক্ষতিগ্রস্ত, অপরদিকে ঔষধের মান নিয়েও থাকবে অনেক প্রশ্ন। এই অর্থলোভী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) নাঈম গোলদারের কারনেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষরাও। প্রকাশ, সিনিয়রদের পদ ডিঙ্গিয়ে পদ বাগিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগও আছে নাঈম গোলদারের বিরুদ্ধে। যোগ্যতানূসারে পদোন্নতি হওয়ার কথা ছিলো কাইয়ুম সাহেবের। কিন্তু তার পদোন্নতি না হয়ে অর্থের বিনিময়ে পদ বাগিয়ে নেন বিতর্কিত এই মোহাম্মদ নাঈম গোলদার।
অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহাগের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং অবৈধভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতিও নিয়েছেন পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) নাঈম গোলদার। প্রকাশ, মোহাম্মদ নাঈম গোলদারের প্রভাবের কারণে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কেউ মুখ খুলতে পারেন নাই তার বিরুদ্ধে। বিতর্কিত ও ফ্যাসিস্ট আমলের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) নাঈম গোলদার এখনো বহাল তবিয়তে থাকে কিভাবে এমন প্রশ্ন অনেকের। পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) নাঈম গোলদার ঘুষ বানিজ্য, অনৈতিক সুবিধা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে বীরদর্পে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে অনেক অজানা তথ্যসহ থলের বিড়াল।
পরীক্ষার কেন্দ্র খরচসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে টাকা লোপাট করেছেন নাঈম গোলদার এমন অভিযোগ রয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রকাশ, ঔষধের কাঁচামাল, মেডিকেল ডিভাইস আমদানি করতে এবং নতুন ইউনিট স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় মোটা অংকের উৎকোচ ও ঘুষ গ্রহণ করে থাকেন পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) নাঈম গোলদার।
এদিকে স্বারক নং- ডিজিডিএ/কমিটি-১-২২/৯৮/১২১ তারিখ ০৪ মার্চ ২০২৬ মূলে দেশের বিভিন্ন বন্দরে ছাড়করণের জন্য অপেক্ষমান ডায়েটারী সাপ্লিমেন্ট, হারবাল সাপ্লিমেন্ট, নিউট্রিশনাল সাপ্লিমেন্ট, মেডিকেল নিউট্রিশন বা থেরাপিউটিক নিউট্রিশন বা খাদ্য পথ্য বা সম্পূরক পথ্য জাতীয় পদসমূহ খালাসের বিষয়ে বিভিন্ন বন্দরের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অত্র দপ্তরে প্রেরিত পত্র এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অত্র দপ্তরে দাখিলকৃত আমদানি সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয় সে কমিটির আহবায়ক হিসেবেও আছেন মোহাম্মদ নাঈম গোলদার। এমন প্রায় ডজন খানেক কমিটির আহবায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করার সুবাদে ঘুষ খাওয়ার মাত্রা আরো বেড়ে গিয়েছে৷ এই অর্থলোভী পরিচালক মোহাম্মদ নাঈম গোলদারের।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের স্মারক নং-ডিজিডিএ/প্রশা-২৬/০৮/১২৬, তারিখ: ০৬/০২/২০২৩ খ্রিঃ মোতাবেক প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ১০ (দশ) ক্যাটাগরির শূন্য পদে জনবল নিয়োগের নিমিত্ত ১৩/০৭/২০২৪ তারিখে গৃহীত লিখিত পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশ, স্মারক নং-ডিজিডিএ/প্রশা-২৬/০৮/৯২৪ তারিখ:১৩/০৭/২০২৪ খ্রিঃ মূলে প্রকাশিত তালিকায় মেধা তালিকা অনুযায়ী প্রকাশ করা হলেও ব্যবহারিক ও মৌখিক পরিক্ষায় বরিশাল বিভাগের ১৩ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১৪ জনকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে নিয়োগ দেন এই নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ নাঈম গোলদার।
অপরদিকে সূত্র: (১) মেসার্স মেডিলিংক টেকনো হাট এর ২৮-০৮-২০২৫ তারিখের আবেদন। (২) নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড নং-৫৯.১১.০০০০,২৪১,০৭,০২০,২৫-২০০, তারিখ: ১৩-০৭-২০২৫খ্রি. এর আলোকে স্মারক নং-ডিএ/২৭-৩৩/২০২৫/১৯৯৮ তারিখ: ২১/০৯/২০২৫ মূলে মেসার্স মেডিলিংক টেকনো হাট ১৯/১, উত্তর ধানমন্ডি, ঢাকাকে অনাপত্তিপত্র প্রদান ও স্বাক্ষর করেন উৎকোচের বিনিময়ে নাঈম গোলদার। এমন অনেক প্রতিষ্ঠানকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ঔষধ, মেডিকেল ডিভাইসসহ বিভিন্ন প্রকার সামগ্রী আমদানির অনাপত্তিপত্র দিয়ে যাচ্ছেন হরহামেশাই এই বিধিবাম নাঈম গোলদার।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে (DGDA) জনবল নিয়োগে অফিস সহকারী এবং অফিস সহায়ক নিয়োগ পরীক্ষায় মোঃ নাঈম গোলদার পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অবৈধভাবে টাকার বিনিময়ে বহু মানুষ কে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করেন। স্বজনপ্রীতি, ঘুস বাণিজ্য, এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক অভিযান ও তদন্ত পরিচালনা করলেও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে না বলেও জানান অনেকেই।
তবে জানা গেছে, দুদকের অনুসন্ধান টিম সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র চেয়ে ব্যাংক, বীমা, সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জাতীয় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ভূমি অফিস, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন (রিহ্যাব) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, জেলা রেজিস্ট্রার, সাব-রেজিস্ট্রার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, ঢাকা বিভাগ, বিআরটিএসহ ৬০টির বেশি অফিসে চিঠি দিয়েছে।
বিস্তর অভিযোগের ফিরিস্তি নিয়ে একাধিকবার মুঠোফোনে নাঈম গোলদার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা পরিচালক (চঃদাঃ) মোহাম্মদ নাঈম গোলদার এর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে অনতিবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বব যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অনেকেই।
উপপরিচালক সৈকত কুমার কর এবং উপপরিচালক (প্রশাসন) মোঃ তানভীর আহমেদ এর ফিরিস্তি নিয়ে প্রকাশিত হবে “ত্রিরত্নের আমলনামা ও ফিরিস্তি : পর্ব-৩”। চলবে….
অপরাধ প্রতিবেদক 








