
মোয়াজ্জেম হোসেন
বিশ্ব নবি রাহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মস্থান ও রওজা মোবারক সৌদি আরবে অবস্থিত। রাসূল সা. এর ২৩ বছরের নবুওয়তি জীবনের কর্মস্থল, দাওয়াত, জিহাদ, ইসলামী বিধিবিধানের বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রপরিচালনা সৌদি আরবকে ঘিরে আবর্তিত হয়। এ দেশে নাজিল হয়েছে পবিত্র কুরআনুল করিম। হাদিসে রাসূলের চর্চার ক্ষেত্র ছিল এ পবিত্র ভূমি। বিপুলসংখ্যক সম্মানিত সাহাবি ও তাবেঈন এ দেশে ইসলামের বহুমাত্রিক খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। এখান থেকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে ইসলামের মর্মবাণী। প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ ঈমানদার পবিত্র ওমরাহ ও হজব্রত পালনে সৌদি আরব সফর করে থাকেন। অন্যান্য আরব দেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিগত চৌদ্দ শ’ বছর ধরে এ পবিত্র ভূমির যারা শাসক ছিলেন বিশেষত খোলাফায়ে রাশেদিন, উমাইয়া, আব্বাসীয়, সেলজুক, ফাতেমি ও উসমানীয় খলিফারা ইসলামী সংস্কৃতি, তাহজিব, তামাদ্দুন ও ঐতিহ্য লালন করেছেন। বিশ্বের দুশো কোটি মুসলমানের প্রাণকেন্দ্র মক্কা ও মদিনা। সর্বোপরি আরব হচ্ছে ইসলামী বিশ্বের স্পন্দিত হৃদয়। ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কারণে পুরো মুসলিম বিশ্বের অভিমুখ আরবের দিকে। প্রতিটি মুসলিম হৃদয় আরবের প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার বন্ধনে আবদ্ধ।
১৯৩২ সালে বাদশাহ আবদুল আজিজ বিন আল-সাউদ সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ (মৃত্যু ২০১৫ খ্রি.) পর্যন্ত ৮৩ বছর ধরে সৌদি আরব রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ, রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী, ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগ ও বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে এবং এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা ও ল্যাটিন আমেরিকায় মসজিদ, কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণ ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরার চেষ্টার কমতি করেনি। বাদশাহরা নিজেদের পবিত্র দুই মসজিদের সেবক (খাদেমুল হারামাইন আশ-শারিফাইন) হিসেবে পরিচয় দিতে গৌরব বোধ করতেন। পবিত্র মক্কা ও মদিনার মসজিদের সম্প্রসারণ, সৌন্দর্যবর্ধন ও হাজিদের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণে দৃশ্যমান প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় মদিনায় কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করে পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় পবিত্র কুরআনের অনুবাদ ও তাফসির ছাপিয়ে বিনামূল্যে হাজিদের মধ্যে লাখ লাখ কপি বিতরণ করা হয়।
২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি সালমান বিন আবদুল আজিজ ক্ষমতায় আরোহণের পর তিনি তার ভ্রাতুষ্পুত্র ক্রাউন প্রিন্স (২০১৫-১৭) মুহাম্মদ বিন নায়েফকে সব পদ থেকে সরিয়ে ছেলে এমবিএস নামে পরিচিত মুহাম্মদ বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স ও ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার নিয়োগ করেন। তিনিই বর্তমানে রাষ্ট্রপরিচালনার নিয়ামক শক্তি। সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা, ক্রাউন প্রিন্স নিয়োগে নতুন নিয়ম, পররাষ্ট্র ও অর্থনীতিতে পরিবর্তন সূচিত হয়।
ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’ নামে কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো ঘোষণা করেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে তেলের নির্ভরতা কমানো, অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিতকরণ, তেলবিহীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নমনীয় ও অধিকতর সেকুলার ইমেজ বৃদ্ধি, জনসেবা খাতের উন্নয়ন তথা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো, বিনোদন, পর্যটন, বিনিয়োগ সুবিধা সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রীয় অর্থব্যয়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সরঞ্জাম উৎপাদনপূর্বক সামরিক খাতকে সমৃদ্ধকরণ। এর মাধ্যমে সৌদি তরুণ-তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীদের কর্মশক্তিকে কাজ লাগানো। বাহ্যত এ ভিশনের বেশ কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে, যেগুলোর ওপর সবিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
বিশেষত চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, বিদেশি বিনিয়োগ, শিল্প কারখানা নির্মাণ ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রভৃতি অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। এসব পরিবর্তন দু-চার বছরে হয়তো সম্ভব নয়, কয়েক দশকের প্রয়োজন। ভিশনের নেতিবাচক দিক মাত্রাতিরিক্ত ভীতিপ্রদ ও ঐতিহ্য পরিপন্থী। অন্য দিকে সে দেশের সাধারণ জনগণ শ্রমবিমুখ। তারা কাজ না করে আরাম আয়েশে জীবন কাটাতে অভ্যস্ত। সরকার আইন করে প্রতিটি বিদেশির দোকানে উচ্চতর বেতনে একজন সৌদি নাগরিককে চাকরি দেয়ার বাধ্যতামূলক আইন করেছে। বেশির ভাগ সৌদি কর্মচারী দোকানের কোনো কাজ করেন না, শুধু হাজিরা দিয়ে বা মোবাইলে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থেকে বেতন গুনেন।
সৌদি আরবে ইকামা নিয়ে বসবাসকারী প্রতিটি বিদেশির নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ইকামা ফি, কফিলের (স্পন্সর) ফি, ইকামা পরিবর্তন ফি প্রভৃতি চার্জ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়ায় বিদেশিরা চলে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। একজন শ্রমিক মাসে যে অর্থ উপার্জন করেন সরকারি ও কফিলের পাওনা আদায়ের পর তার আর বেশি সঞ্চয় থাকে না। সৌদি আরবের সড়ক, মহাসড়ক, অট্টালিকা ও অবকাঠামো নির্মাণে বিদেশি শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়নের পেছনেও রয়েছে বিদেশি শ্রমিকদের মেহনতের ঘাম। ‘সৌদি ব্যবসা সৌদিদের দ্বারা পরিচালিত হবে’ এমন একটা পলিসি কার্যকর করতে চাচ্ছে সরকার। পলিসির ভবিষ্যৎ নিয়ে এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়। কোনো বিদেশি ব্যবসা করতে গেলে অর্থবিনিয়োগ, দোকানের বরাদ্দপত্র, লাইসেন্স, মিউনিসিপ্যালটির ছাড়পত্র প্রভৃতি কফিলের নামে নেয়া বাধ্যতামূলক।
সৌদি আরবে ঐতিহ্যগতভাবে চালু রয়েছে রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় ধর্মীয় বিধিবিধান। বিচার ব্যবস্থায় রয়েছে শরিয়াহ আইনের প্রাধান্য। ‘নমনীয় ও অধিকতর সেকুলার ইমেজ’ বাড়তে গেলে সঙ্কট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। সৌদি সরকার সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটন ও বিনোদন খাতকে অগ্রাধিকার দিতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে জেদ্দা, রিয়াদ, জিজান, ইয়ানবু, আবহা, তায়েফ ও অন্যান্য শহরে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পপ সঙ্গীত, ফ্যাশন শো, গীতিনৃত্য ও কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। এমন আয়োজনের আরো পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সৌদি আরব ও অন্যান্য আরব দেশের তরুণ-তরুণীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। দুবাই, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মিলান, ন্যাপলস, ভেনিস ও প্যারিসের মতো সৌদি আরবকে গড়ে তুলতে চায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ।
২০১৮ সালে সৌদি আরব সিনেমার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পরপরই নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রদর্শন, প্রযোজনার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। এরই মধ্যে হলিউডি স্বপ্নের এ শিল্পে দেশটি ৬৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। পুরো দেশে ৩০০টি প্রেক্ষাগৃহ নির্মিত প্রকল্প হয়েছে। এর মধ্যে পবিত্র মদিনায় নির্মিত হয় ১০টি। সরকার আশা করছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে সৌদি আরবে ৩০০ টিরও বেশি থিয়েটার থাকবে যেখানে ২০০০ টিরও বেশি সিনেমার পর্দা থাকবে। কমিশন ঘোষণা করেছে যে “রাজ্যে সিনেমা সেক্টর চালু করন,” যা ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির অধীনে জীবনযাত্রার মানসম্পন্ন কর্মসূচির একটি উদ্যোগ, ২০২১ সালে সৌদি আরবে সিনেমার সংখ্যা ৫৩-এ উন্নীত করার লক্ষ্যে সফলভাবে অর্জন করেছে। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে সৌদিতে ৯০০ মিলিয়ন রিয়েল মূল্যের সিনেমার টিকিট বিক্রি হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মান হয় প্রায় ২৬ লাখ কোটি টাকা। ভবিষ্যতে কীভাবে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো যায়, তার জন্য সৌদি ফিল্ম কমিশন গঠন করেছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। দেশটিতে বর্তমানে ৬৯টি হল রয়েছে যাতে ৬২৭টি পর্দায় প্রতিনিয়ত চলছে হলিউড ও বলিউডের সিনেমা।
২০১৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে সৌদি আরবে নারীর ক্ষমতায়ন ও তাদের কর্মশক্তি কাজে লাগানোর পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। একা একা নারীদের ভ্রমণ, অবস্থান, নারীদের গাড়ি চালানো, রেস্তোরাঁগুলোতে নারী-পুরুষ একসাথে বসে পানাহার, বাইরে বের হলে বোরকা বা হিজাব পড়ার বাধ্যতামূলক বিধান রহিতকরণ, বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড, মিউজিক কনসার্টে নারীদের অংশগ্রহণ, বিভিন্ন শপিংমলে নারী সেলসগার্ল নিয়োগ, পবিত্র কাবাগৃহ ও মদিনার মসজিদ চত্বরে ইউনিফর্ম পরা নারী পুলিশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন লক্ষ করা যায়। ইদানীং পাশ্চাত্যের আদলে বিনোদন কর্মকাণ্ড চোখে পড়ার মতো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
ঐতিহ্য ভঙ্গ করে বিনোদন, স্টর্ম কনসার্ট, পপ সঙ্গীত, ডিজে পার্টি, সিনেমা তৈরি ও প্রদর্শন এবং নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার নামে পাশ্চাত্যের অনুকরণ ‘ভিশন ২০৩০’ কী পরিমাণ সফলতা বয়ে আনে তা রীতিমতো অনিশ্চিত ও চ্যলেঞ্জিং। সৌদি আরবে তৈরি হয়েছে অশ্লীল ফ্যাশান শোর মঞ্চ। আর সেই মঞ্চে নাচ-গান করছে অশ্লীল দুনিয়ায় জনপ্রিয় শিল্পী জেনেফার লোপেজ ও সেলিন ডিওন! শুধু তাই নয়, সেখানে চলছে খোলামেলা পোশাকে ফ্যাশন শো! পপ তারকা জাস্টিন বিবার এমনকি কোরিয়ান পপ ব্যান্ড বিটিএস এরও কনসার্ট হয় দেশটিতে। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায় কালিমার পতাকা সামনে নিয়েই দিব্যি চলছে পপ কনসার্ট। এ ছাড়াও নিয়মিত হচ্ছে বিভিন্ন শো, যাতে হলিউড-বলিউডের তারকারা পারফর্ম করে থাকে। সৌদি আরবে পালিত হচ্ছে পশ্চিমা উৎসব হ্যালোইনও। শুধু মদ বা সিনেমা না, পর্দাহীনতা, নগ্নতা ও অশ্লীলতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০৩০ সালের এক্সপোসহ বড় বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতির আগে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করার লক্ষ্যে সৌদি আরব ২০২৬ সালের মধ্যে ৬০০টি পর্যটন স্থানে দীর্ঘদিনের জন্য মদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। এক ধাক্কায় ‘অতি-রক্ষণশীল’ দেশটি পাঁচ তারকা হোটেল, বিলাসবহুল রিসোর্ট এবং প্রবাসী-বান্ধব কম্পাউন্ডসহ লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্থানে ওয়াইন, বিয়ার এবং সাইডার বিক্রির অনুমতি দেবে। এর লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যটন বৃদ্ধি করা, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং এর ‘টিটোটাল ভাবমূর্তি’ ঝেড়ে ফেলা।
সৌদি আরবের অর্থ উপার্জনের অন্যতম বড় উৎস হয় হজ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে হজ যাত্রা থেকে বিপুল আয় করে সৌদি আরব। কিছু রিপোর্ট মোতাবেক অপরিশোধিত তেল বিক্রির থেকেও হজযাত্রা থেকে বেশি আয় করে সৌদি। সৌদি আরবের মোট রাজস্বের প্রায় ৩০ শতাংশ ঢোকে হজযাত্রা থেকে। হজ ও ওমরা যাত্রীদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করে এই মাধ্যমে আয় আরো কিভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে সদা তৎপর সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যে রুহানিয়াত, আধ্যাত্বিকতা, ধর্মীয় আবেগ ও অনুভুতি নিয়ে হজ ও ওমরা করতে আসে, সৌদি কর্তৃপক্ষ সেটা বজায় রাখতে পারছে না। তারা পারলৌকিকতার চেয়ে অতিমাত্রায় লৌকিকায় গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে। পারিপাশ্বিকতায় মনে হয় ধর্মীয় আবেগ অনুভুতির চেয়ে তাদের কাছে টাকা ইনকাম মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। মক্কা হারাম শরিফ সংলগ্ন জমজম টাওয়ার ও দারাল-আত-তাওহীদে যেভাবে মহিলা সেলসম্যানরা গ্রাহক ডাকাডাকি করে এবং ফুডকোটগুলোতেও অবাদ নারী পুরুষের সহবস্থান ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের চোখে দৃস্টিকটু টেকে। মক্কা, মদিনার বাইরেও বিভিন্ন শহরগুলোতে পর্দাহীন নারী, এমনকি টি শার্ট ও জিন্স পরা মেয়েদের হরমামেশায় দেখা যায়। এইসব ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক হলেও, সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই সৌদি কর্তৃপক্ষের।
বোদ্ধামহল মনে করেন, হজ ও ওমরার দেশ সৌদি আরব দিন দিন পরিণত হচ্ছে পাপের স্বর্গরাজ্যে!
সেকুলারিজমের বিকাশ ও পাশ্চাত্য কৃষ্টির প্রবর্তন সৌদি সমাজ কতটুকু গ্রহণ করে তা দেখার বিষয়।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আশা করে বিশ্ব মুসলিমের প্রাণকেন্দ্র সৌদি আরব ইসলামের সুমহান ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে বিশ্বের মুসলিম দেশসমুহের নেতৃত্বের আসনে থাকুক। পাশ্চাত্যের বিজাতীয় সংস্কৃতি নয়, ইসলামী সংস্কৃতির লালন, প্রচার, প্রসার ও বিস্তারে ভূমিকা পালন করুক।
মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রাবন্ধিক ও গবেষক
moazzamhossain74@gmail.com
মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রাবন্ধিক ও গবেষক 









